মায়ের চিঠি

মায়ের লেখা চিঠি এসেছে দেশের বাড়ি থেকে

প্রাণভরা আনন্দ তাই উথলে উঠে মনের মাঝে

দরদভরা মায়ের চিঠি ছড়ানো সকল মায়া

কাঁচা হাতের বড় অক্ষরে লেখা লাইন আঁকাবাঁকা।

বিভুঁই বিদেশে কেমন আছি কেমন হচ্ছে লেখাপড়া

কতকিছু তার জানার ইচ্ছা সবই তাতে মায়াভরা।

মা লিখেছে ছোট ভাই এর বাংলা লেখার খাতা ছিড়ে

কতকিছু ‘মা’র লেখা হয়নি কাজের হেরে-ফেরে।

সময়মত খাওয়া দাওয়া শরীরের যত্ন নিও,

সবকিছু জানায়ে তুমি চিঠির উত্তর দিও।

মায়ের চিঠি পড়তে পড়তে চোখে আসে পানি,

মায়ের মুখ মনে করে ভুলে যাই দুঃখ গ্লানি

তখন আমার মনে পড়ে জন্ম পল্লীর কথা,

চোখের সামনে ভেসে উঠে বাল্যদিনের কথা

পাখির বাসা লাটাই, লাটিম মার্বেল ডাংগুলি

একে একে মনে পড়ে আনন্দের সেই দিনগুলি।

ঝড়ের দিনে আমকুড়ানো পড়ায় ফাঁকি দেওয়া

কতই না সব মজার ছিল জ্যোৎস্না রাতের খেলা।

বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে জামের গাছে উঠে,

আনন্দ করে সবাই জাম খেতাম সাহস নিয়ে বুকে।

সারাদিন উপোষ থেকে সন্ধ্যায় ফিরতাম বাড়ি,

মা আমার তখন কোলে নিত কোলের মাঝে ধরি।

আদর করে বুঝাত সে মাথায় রেখে হাত

পাগলামি সব ছেড়ে দে বাবা দিব্যি রইলো ভাত।

মায়ের সেসব অনেক কথা আজি মনে পড়ে,

মায়ের আদর থাকবে মনে জনম জনম ধরে

মায়ের ঋণ হবে না শোধ কোনোদিন কোনো কালে

মায়ের দোয়া সঙ্গে নিয়ে চলব সম্মুখ পানে।

মায়ের দেওয়া ছোট্ট চিঠি স্বপ্ন দিয়ে ভরা

তাই নিয়ে আজ ধন্য হলাম, ধন্য হলো ধরা।

 

– কৃষিবিদ ডা. মো. আব্দুল মান্নান (১৯৭০-১৯৭২ খ্রি: ব্যাচ)

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

×